শীতের শিশিরভেজা সকালে আকাশে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার বগুড়া, পাবনা, গাইবান্ধা ও কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো আঞ্চলিক গণিত উৎসব। ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় উৎসব আয়োজনে যুক্ত রয়েছে গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। উৎসব আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করছেন প্রথম আলোর বন্ধুসভার বন্ধুরা।

বগুড়া জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে আঞ্চলিক গণিত অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করছেন অতিথিরা। ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, বগুড়া। ছবি: সোয়েল রানা


বগুড়া: সকাল ৯টায় বগুড়া জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, জাতীয় গণিত উৎসব ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই উৎসবের শুরু হয়। এতে বগুড়া ছাড়াও জয়পুরহাট ও সিরাজগঞ্জ জেলার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী জাতীয় পতাকা, বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু নূর মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম চৌধুরী জাতীয় অলিম্পিয়াডের পতাকা এবং ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের বগুড়া শাখার ব্যবস্থাপক ফজলুল কবির আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক।

গণিত শেখার প্রতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘গণিত নিয়ে একসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি-আতঙ্ক ছিল। এখন গণিত কোনো ভীতির বিষয় নয়; তোমরা অনেক উচ্ছ্বাস-আনন্দ নিয়ে এই গণিত উৎসবে যোগ দিয়েছ। গণিতের ভয় কাটিয়ে তোমরা বিশ্বজয় করার স্বপ্ন দেখছ। তোমাদের জন্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। গণিত জয়ের একবুক স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে এই উৎসবে যোগ দিয়েছ। তোমাদের স্বপ্ন একদিন সত্যি হবেই।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তোমরা অনেক মেধাবী, বুদ্ধিমান, সেরা ও সাহসী। মেধা, সৃষ্টিশীলতা, চিন্তাশীলতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে তোমরাই একদিন সাহসী জাতি গড়ে তুলবে। সাহসী, সেরা ও মেধাবীরা কখনো মাদক নেয় না, মিথ্যে বলে না, দুর্নীতি করে না। সাহসী মেয়েরা কখনো বাল্যবিয়েতে রাজি হয় না। দেশপ্রেমের চেতনায় তোমরা এগিয়ে যাবে, তোমরাই হবে সাহসী বাংলাদেশ।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর শুরু হয়েছে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মূল্যায়ন পরীক্ষা। এরপর শুরু হবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। বেলা আড়াইটায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করবেন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ সামস্ উল আলম।

পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বেলুন উড়িয়ে গণিত উৎসবের উদ্বোধন করছেন অতিথিরা। ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, পাবনা। ছবি: হাসান মাহমুদ


পাবনা: সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৯টায় বন্ধুসভার পরিবেশনায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় আর গণিত ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে পাবনা অঞ্চলের গণিত উৎসব শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. তালেবুর রহমান, গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন পাবনায় গণিতের প্রবীণ শিক্ষক ও পাবনা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবজিত নাগ, আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম। উৎসবে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর পাবনা প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অতিথিরা। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হচ্ছে গণিত। তাই গণিতকে ভালো করে রপ্ত করতে হবে। গণিত নিয়ন্ত্রণে থাকলে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

শিবজিত নাগ বলেন, গণিত বোঝার বিষয়। যে গণিত বুঝবে, সে গণিত দিয়ে সাহিত্য, কবিতা সব তৈরি করতে পারবে।

তালেবুর রহমান বলেন, গণিতের ভয়কে দূর করতে এই উৎসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বুঝিয়ে দিচ্ছে তারাও গণিতের ভয়কে জয় করতে পেরেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পাবনা অঞ্চলের এ উৎসবে পাবনা জেলা সদর ছাড়াও বেড়া, সাঁথিয়া, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও সুজানগর উপজেলার প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

গাইবান্ধার আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে শান্তির পায়রা উড়িয়ে আঞ্চলিক গণিত উৎসবের উদ্বোধন করছেন অতিথিরা। ২২ ডিসেম্বর, ২০১৭, গাইবান্ধা। ছবি: শাহাবুল শাহীন


গাইবান্ধা: আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সকাল ৯টার দিকে শান্তির পায়রা উড়িয়ে গাইবান্ধা আঞ্চলিক গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল। এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা, জাতীয় গণিত উৎসব ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, গাইবান্ধা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম নকিবুল হাসান, আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইদ্রিশ আলী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও ছড়াকার আবু জাফর, প্রথম আলোর প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন প্রমুখ। পরে আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

জেলার শীর্ষস্থানীয় ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে।

কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে গণিত উৎসবের উদ্বোধন করা হচ্ছে। ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, কুষ্টিয়া। ছবি: তৌহিদী হাসান


কুষ্টিয়া: সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, জাতীয় গণিত উৎসব ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক গণিত উৎসব শুরু হয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এস মেহেদী হাসান জাতীয় পতাকা, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক দিবাকর বিট জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা এবং পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুল আরেফিন আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অতিথিরা উৎসবের উদ্বোধন করেন। কুষ্টিয়া আঞ্চলিক গণিত উৎসবে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ৮০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

উদ্বোধনের পর শুরু হয় পরীক্ষার পর্ব। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এই চার বিভাগে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরপর প্রশ্ন-উত্তর পর্ব ও সমাপনী অনুষ্ঠান। এদিনই আঞ্চলিক উৎসবের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীরা সুযোগ পাবে জাতীয় গণিত উৎসবে অংশ নেওয়ার। জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীরা যাবে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে।

উৎসবে উদ্বোধনী বক্তব্যে পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। তোমরা বিজয়ের গান গাইবে, মনে ধারণ করবে। যত বেশি গণিত শিখবে, বেশি বেশি করে গণিতের চর্চা করবে, তত বেশি তোমাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।’

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক দিবাকর বিট বলেন, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহযোগিতা করে আসছে। শিক্ষার্থীরা গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সুনাম বয়ে আনছে।

এ সময় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক এ এস এম মুসা কবির, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পার্থ সারথি সাহা, প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।