All the latest activities

কুষ্টিয়ায় গণিত উৎসবে পরীক্ষায় মগ্ন শিক্ষার্থীরা। ছবি: তৌহিদী হাসান

কুষ্টিয়া ও নরসিংদীতে আজ রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গণিত উৎসব। শীতের সকালে এ উৎসবে দুই জেলার প্রায় ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল সাড়ে আটটা। এর আগেই ঘন কুয়াশা ও মৃদু শীতল বাতাস জয় করে শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে আসতে শুরু করে। সাড়ে আটটার আগেই পূর্ণ হয়ে যায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠ। সেখানে ডাচ-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব শুরু হয়েছে।
সকাল নয়টায় কুষ্টিয়া বন্ধুসভার সদস্যরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আনার কলি মাহবুব। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা তোলেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিভা রানী পাঠক ও আন্তর্জাতিক পতাকা তোলেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম। এ সময় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক ও যুব কর্মসূচির সমন্বয়ক মুনির হাসান, প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আনার কলি মাহবুব বলেন, ‘শীতের শীতল বাতাস ও গণিতের ভয়কে উপেক্ষা করে তোমরা যারা আজ এখানে এসেছ, তোমরাই পারবে ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্বে দিতে। জয় করবে সকল বাধা-বিপত্তি।’
কুষ্টিয়ার উৎসবে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সকাল পৌনে ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়।
নরসিংদী: সকাল থেকেই নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আসতে থাকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা। এখানেই গণিত উৎসবের নরসিংদী আঞ্চলিক পর্যায়ের অনুষ্ঠান। ১৩তম এ গণিত উৎসবের স্লোগান ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল সাড়ে নয়টায় নরসিংদী বন্ধুসভার সদস্যরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান জাতীয় পতাকা, ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খোদাদাদ খান গণিতের আন্তর্জাতিক পতাকা ও নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র মিত্র বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র মিত্র গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে নরসিংদী ও ব্রহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৌনে পাঁচ শ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এই চার বিভাগে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা গণিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গতকাল গণিত উৎসবে প্রশ্ন করে এক শিক্ষার্থী l ছবি: প্রথম আলো

শব্দতরঙ্গ কী, প্লুটোকে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কেন—এমন অফুরন্ত প্রশ্ন আর উত্তর। পাশাপাশি নাচ, গান, কবিতা, কুইজ। নানা আয়োজনে গতকাল শনিবার রাজশাহী, টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ ও নড়াইলে হয়ে গেল গণিত উৎসব।
উৎসবে বিশিষ্টজনদের কথায় উঠে আসে গণিতের মাহাত্ম্য, ‘গণিত মানুষকে সৃজনশীল হতে শেখায়’, ‘গণিতের ছন্দ সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে নিহিত আছে’।
এ উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। পৃষ্ঠপোষক ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রথম আলো। ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান নিয়ে প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এ চার বিভাগে শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। চার ভেন্যুতে ১০টি জেলার অন্তত ১৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী যোগ দেয়।

রাজশাহী: সকাল নয়টায় এক হাজার শিক্ষার্থীর কণ্ঠে ধ্বনিত হলো জাতীয় সংগীত। উত্তোলন করা হলো জাতীয় পতাকা। ‘গণিত শেখো স্বপ্ন দেখো’—স্লোগান লেখা উৎসবের ব্যানার নিয়ে আকাশে উড়ে গেল একঝাঁক বেলুন। শুরু হলো রাজশাহী আঞ্চলিক গণিত উৎসব।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এ উৎসবে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
উৎসবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন। জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্থানীয় শাখার ব্যবস্থাপক আবু আলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক জালাল উদ্দিন। উদ্বোধনী বক্তব্যে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আজকের এই খুদে গণিতবিদদের হাতে যদি থাকে দেশ তাহলে প্রথম আলোর ভাষায় বলতে হয়, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।’
সকাল পৌনে ১০টায় শুরু হয় এক ঘণ্টার পরীক্ষা। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক, গণিত বিভাগের শিক্ষক আসহাবুল হক, রবিউল হক, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুস সামাদ মণ্ডল, রাজশাহী কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক শহীদুল আলম ও নগরের ছোটবনগ্রাম ইউসেপ স্কুলের শিক্ষক মাসুদ রানা।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে পাকিস্তানে তালেবানের হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরের শিক্ষার্থী মজার মজার প্রশ্ন করে পুরস্কার জিতে নেয়।
উৎসবে রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র সাদমান ইবনে সাইফুল।
অনুষ্ঠানের রাজশাহী বন্ধুসভার বন্ধুরা গণিত জয়ের গান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।


প্রশ্ন করছে এক শিক্ষার্থী। গতকাল হবিগঞ্জ বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে l ছবি: প্রথম আলো

টাঙ্গাইল: সকাল নয়টায় শুরুর কথা থাকলেও শীত উপেক্ষা করে সাড়ে আটটার মধ্যেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় উৎসবস্থল। টাঙ্গাইল শহরের বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু সালেহ্ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খাঁ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খোদাদাদ খান, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে।
খোদাদাদ খান বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, সৃজনশীল না হয়ে পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে লাভ নেই। গণিত মানুষকে সৃজনশীল হতে শেখায়।’
উদ্বোধনী অধিবেশনের পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে শুরু হয় কুইজ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রশ্নের উত্তর দেন খোদাদাদ খান, আব্দুল কাইয়ুম, আবু সালেহ্ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খাঁ, আনন্দ মোহন দে, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান পিনাকী দে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাজ্জাদ ওয়াহিদ ও আহসান হাবিব, পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক যোবায়দুল ইসলাম। উৎসবের বিভিন্ন পর্বের সঞ্চালনা করেন জাহিদ হোসাইন খান, মোর্শেদুল আমিন ও টাঙ্গাইল বন্ধুসভার আল মোসাব্বির।

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ বিকেজিসি বালিকা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হওয়া উৎসবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পাশাপাশি ছিলেন তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এ গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন বিকেজিসি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমেনা খাতুন। এ সময় আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিজিত কুমার ভট্টাচার্য্য ও বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংক হবিগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নজমুল হক।
বিজিত কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীই পড়াশোনায় ভালো করতে চায়। কিন্তু যখন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, তখন আমরা সবাই হতাশ হই। এ অপতৎপরতা বন্ধ না হলে শিক্ষার মান নিয়ে আমরা এগোতে পারব না।’ আমেনা খাতুন বলেন, গণিত শিক্ষার্থীদের নতুন পথ দেখাবে।
এরপর পরীক্ষা ও তারপর প্রশ্নোত্তর ও কুইজ প্রতিয়োগিতা শুরু হয়। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একাডেমিক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান। এ পর্বে উপস্থিত ছিলেন বিকেজিসি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুধাংশু কুমার কর্মকার ও নবীগঞ্জ হোমল্যান্ড আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস চন্দ্র আচার্য্য। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন হবিগঞ্জ বন্ধুসভার সদস্যরা।

নড়াইল: ঘন কুয়াশা আর হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক আর অতিথিরা সকাল নয়টা বাজার আগেই নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন। নয়টায় বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক আবদুল গাফফার খান, আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা তোলেন নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল কুমার বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা তোলেন ভাষাসৈনিক রিজিয়া খাতুন।
জেলা প্রশাসক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সকাল ১০টায় ঘণ্টা বাজিয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। মোট ৮৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা নিয়ে বেশ উত্তেজনা ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কে পাস করবে, ঢাকায় যাওয়ার টিকিট পাবে। মজার পর্ব ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। নানা প্রশ্নের উত্তর দেন গণিতবিদ সৌমিত্র চক্রবর্তী। গণিত অলিম্পিয়াড একাডেমির কাউন্সিলর দলের সদস্য কামরুল হাসান, সুদীপ্ত, স্বাক্ষর, হাসান ইমাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানস্থলে নির্মিত তাম্রলিপি, গণিত অলিম্পিয়াডের বই, রকমারি ডট কম, বন্ধুসভার চারটি স্টলে বেশ ভিড় দেখা যায়। পরে বন্ধুসভার সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করে।
সমাপনীতে বিশিষ্ট সমাজসেবক শৈলেন্দ্রনাথ সাহা, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল কুমার বিশ্বাস বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নড়াইল প্রতিনিধি কার্ত্তিক দাস।

 

হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত গণিত উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবিটি আজ বি কে জি সি বালিকা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে তোলা। ছবি: আনিস মাহমুদরাজশাহী, নড়াইল, টাঙ্গাইল ও হবিগঞ্জে আজ শনিবার সকালে শুরু হয়েছে গণিত উৎসব। ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’—স্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। আর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে প্রথম আলো। 
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
রাজশাহী: ঘড়ির কাঁটায় সকাল নয়টা। এক হাজার শিক্ষার্থীর কণ্ঠে ধ্বনিত হলো জাতীয় সংগীত। তোলা হলো জাতীয় পতাকা। ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’—স্লোগান লেখা উৎসবের ব্যানার নিয়ে আকাশে উড়ে গেল একঝাঁক বেলুন। শুরু হলো রাজশাহী আঞ্চলিক গণিত উৎসব। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত উৎসবে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী উৎসবে অংশ নেয়। 
উৎসবের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন। জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা লিমিটেডের স্থানীয় শাখার ব্যবস্থাপক আবু আলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক জালাল উদ্দিন। সকাল পৌনে ১০টায় শুরু হয় পরীক্ষা। বেলা ১১টায় পরীক্ষা শেষে চলছে প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলোর যুববিষয়ক কর্মসূচির সমন্বয়ক মুনির হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অরুণ কুমার বসাক, গণিত বিভাগের শিক্ষক আসাবুল হক, রবিউল হক ও নগরের ছোটবনগ্রাম ইউসেপ স্কুলের শিক্ষক মাসুদ রানা। 

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের স্থানীয় বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালেহ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খাঁ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট গণিত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক খোদাদাদ খান, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে বক্তব্য দেন। উৎসবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
নড়াইল: নড়াইল শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক আর অতিথিরা সকাল নয়টা বাজার আগেই নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন। নয়টায় বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের কার্যক্রম। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আবদুল গাফফার খান জাতীয় পতাকা, নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল কুমার বিশ্বাস আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড পতাকা ও ভাষাসৈনিক রিজিয়া খাতুন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড পতাকা তোলেন। কাল ১০টায় ঘণ্টা বাজিয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা হয়। মোট ৮৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে শুরু হয়েছে আঞ্চলিক পর্যায়ের গণিত উৎসব। আজ সকাল নয়টায় বি কে জি সি বালিকা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ উৎসব শুরু হয়। হবিগঞ্জের এ গণিত উৎসবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এই চার বিভাগে শিক্ষার্থীরা গণিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। ১৩তম গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন ভেন্যু প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আমেনা খাতুন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিজিত কুমার ভট্টাচার্য ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হবিগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নজমুল হক।

 

খুলনার করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে গতকাল গণিত উৎসবে অতিথি ও শিক্ষকদের সঙ্গে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা l ছবি: প্রথম আলো

সকালের শুরুটা হয়েছিল কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে হাড়-কাঁপানো ঠান্ডা নিয়ে। এ কারণেই বোধহয় গতকাল শুক্রবার সুনামগঞ্জ, খুলনা, ময়মনসিংহ ও পাবনার সাধারণ মানুষের সকালটা শুরু করতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। তবে ‘বিশেষ’ কিছু মানুষের সকাল শুরু হয়েছিল সকালেরও আগেই! কুয়াশা কিংবা ঠান্ডা কোনোটাই ঘরে আটকে রাখতে পারেনি তাঁদের।
১১ জেলার ২০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা গতকাল সমবেত হন উল্লিখিত চারটি স্থানে। শীতে জবুথবু হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে তাঁরা ছুটে আসেন আঞ্চলিক গণিত উৎসবে।
উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। পৃষ্ঠপোষক ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রথম আলো। ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান নিয়ে প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—এই চার বিভাগে শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। সব স্থানেই বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসব উদ্বোধন করা হয়।
প্রশ্নের যেন শেষ নেই! পাবনা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গতকাল গণিত উৎসবে প্রশ্ন করে এক শিক্ষার্থী l ছবি: প্রথম আলো

খুলনার করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে সকাল নয়টায় উৎসবের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লায়লা আরজুমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি (কুয়েট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শিবেন্দ্র শেখর শিকদার। অনুষ্ঠানে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার প্রায় ৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শিবেন্দ্র শেখর শিকদার বলেন, ‘আমরা মহাবিশ্বকে চিহ্নিত করি গাণিতিক নিয়মে। তাই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভালোভাবে গণিত শিখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হারুনুর রশিদ, মো. আলহাজ উদ্দীন, হাসিবুল হক, আশীষ বর্মণ ও সাইফুল ইসলাম। কুইজ পর্বে শিক্ষার্থীরা নানান প্রশ্ন করে। আমাদের গ্রহ সূর্য, চাঁদ গোল আকৃতির হয়, কিন্তু অন্য আকৃতির হয় না কেন? প্রকৃত উৎপাদক ও মৌলিক উৎপাদকের মধ্যে পার্থক্য কী? অসংজ্ঞায়িত ও অনির্ণেয়র মধ্যে পার্থক্য কী? শক্তির ধ্বংস বা সৃষ্টি নেই। তাহলে বিশ্বের এত শক্তি কোথা থেকে আসে? এসব প্রশ্ন অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে।
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাইস্কুলে গতকাল গণিত উৎসবে প্রশ্ন করার জন্য হাত তুলে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা কয়েকজন শিক্ষার্থী l ছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাইস্কুল মাঠে সকাল সাড়ে নয়টায় উৎসব যৌথভাবে উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ রায়হান উদ্দিন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জহিরুল হক খন্দকার। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপক নূরে আলম খান।
উৎসবে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার ৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার বসাক, এখলাস উদ্দিন খান, আলতাব হোসেন, রুহুল আমিন, আল মামুন ও রফিকুল ইসলাম।
পাবনার আদর্শ গার্লস হাইস্কুল মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করেন গণিতের প্রবীণ শিক্ষক ও পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিবজিত নাগ। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন আদর্শ গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ খান। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পাবনা শাখার ব্যবস্থাপক শফিকুজ্জামান খান।
হাত তুলে মিথ্যা, মাদক ও মুখস্থকে ‘না’ বলছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সুনামগঞ্জ শহরের এইচএমপি উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত গণিত উৎসবে ছবি: প্রথম আলো

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলোর যুববিষয়ক কর্মসূচির সমন্বয়ক মুনির হাসান। তাঁর সঙ্গে অংশ নেন শিক্ষক মো. নূর আলম, উদয় শংকর বসাক, তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া, উত্তম কুমার চৌধুরী ও আইনুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আখতার জামান। উৎসবে জেলার ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে তিন শ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
সুনামগঞ্জের অনুষ্ঠানে আসে সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী। উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম আজাদ এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন এইচএমপি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রেমানন্দ বিশ্বাস।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নোত্তর ও কুইজ পর্বে অংশ নেয়। প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষক রাশেদ তালুকদার, সাজেদুল ইসলাম, আবদুল হান্নান, যোগেশ্বর দাস, মুত্তাকিন রহমান ও বিজয় কৃষ্ণ দাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একাডেমিক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান।

ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঝিরিঝিরি হিমেল বাতাস। শীতটাও তাই জেঁকে বসেছে। কিন্তু গণিত জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে তা কিছুই নয়। উৎসব শুরু হওয়ার আগেই দলে দলে হাজির খুলনা নগরের সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠে। আজ শুক্রবার এখানেই গণিত উৎসবের খুলনার আঞ্চলিক পর্যায়ের অনুষ্ঠান।

এ গণিত উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। উৎসবে পৃষ্ঠপোষক ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড আর সার্বিক ব্যবস্থপনায় প্রথম আলো। ১৩তম এ গণিত উৎসবের স্লোগান ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’।

আজ শুক্রবার সকাল নয়টায় করোনেশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার প্রায় ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৫০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক—এই চার বিভাগে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা গণিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

বক্তৃতায় লায়লা আরজুমান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন আর গণিতভীতি নেই। গণিত মাধ্যমে আমাদের বিশ্বকে জয় করতে হবে। গণিত জয়ের মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে দেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর শিবেন্দ্র শেখর শিকদার, গণিত বিভাগের শিক্ষক মো.আলহ্বাজ উদ্দীন, হারুনুর রশিদ প্রমুখ।

পাবনায় গণিত উৎসব শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল নয়টায় পাবনা আদর্শ গার্লস হাইস্কুলে এ উৎসব শুরু হয়। পাবনা সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিবজিত নাগ এ উৎসবের উদ্বোধন করেন।

পাবনায় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক পর্যায়ের এ গণিত উৎসবে জেলার প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পাবনা বন্ধুসভার সদস্যরা জাতীয় সংগীত পরিবেশনা করেন। এ সময় পাবনা আদর্শ গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ খান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। গণিতের আন্তর্জাতিক পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পাবনা শাখার ব্যবস্থাপক শফিকুজ্জামান খান ও বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন অধ্যক্ষ শিবজিত নাগ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, পাবনা সরকারী মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আকতারুজ্জামান, সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সমির আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় শিবজিত নাগ বলেন, গণিত দিয়ে সব কিছু জয় করতে হবে। আজকের তোমরাই পারবে গণিত দিয়ে আগামীর পৃথিবীটা জয় করতে।

‘গণিত শেখো স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান সামনে রেখে ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে আঞ্চলিক পর্যায়ের গণিত উৎসব। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল মাঠে গণিত উৎসব শুরু হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ রায়হান উদ্দিন গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন।
ডাচ-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এটি ১৩তম গণিত উৎসব। ময়মনসিংহে গণিত উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জহিরুল হক খন্দকার, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ময়মনসিংহ শাখার উপব্যবস্থাপক নুরে আলম খানসহ ভেন্যু প্রতিষ্ঠান ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। 
ময়মনসিংহের এ আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রোকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এ চারটি বিভাগে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী গণিত উৎসবে যোগ দিয়েছে। 
উদ্বোধনী বক্তব্যে সৈয়দ রায়হান উদ্দিন বলেন, ডাচ-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো আয়োজিত এই গণিত প্রতিযোগিতা বাংলাদেশেরÿখুদে গণিতবিদদের সারা বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। 

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচয় করিয়ে দিতে গণিত উৎসবের ভূমিকা অনেক দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে চলছে বলে মন্তব্য করেন জহিরুল হক খন্দকার ও নুরে আলম খান।

মুনির হাসান l

বছর ঘুরে আবার এসেছে গণিত উৎসব—প্রাণের মেলা। ত্রয়োদশ বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক–প্রথম আলো গণিত উৎসব ২০১৫। শুরু হয়েছিল প্রথম আলোর পাতায়, ২০০১ সালে। জাফর ইকবাল স্যার আর কায়কোবাদ স্যার প্রতি সপ্তাহে পাঁচটি করে গাণিতিক সমস্যা ছাপাতেন। মুসা ইব্রাহিম পোস্টকার্ডে আসা উত্তরগুলো যাচাই করতেন। সেই নিউরনে অনুরণন থেকে আজকের ত্রয়োদশ গণিত অলিম্পিয়াড। শৈশব পার হয়ে এখন দুরন্ত কৈশোরে। মাত্র ৩ পয়েন্ট দিয়ে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে আমরা পদক জেতাটা শিখে নিয়েছি এখন। রুপার পদকও পেয়েছি। এর পাশাপাশি দেশে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের একটি সংস্কৃতিও ডানা মেলতে শুরু করেছে। গণিত অলিম্পিয়াডের দেখানো পথ ধরে দেশে বিষয়ভিত্তিক অলিম্পিয়াডও চালু হয়েছে। তবে দেশের সব স্তরের শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা এখনো উৎসবকে পৌঁছাতে পারিনি। তাই এবার থেকে যেসব জেলায় এর আগে গণিত উৎসব হয়নি, সেসব জেলায় গণিত উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার ২৪টি আঞ্চলিক উৎসবের ১১টিই নতুন।
সচেতনতা ও উৎসাহ সৃষ্টির পাশাপাশি গাণিতিক দক্ষতা বাড়ানোয় আমাদের উদ্যোগকে আমরা প্রসারিত করছি নানা দিকে। প্রস্তুতির জন্য লেখা হচ্ছে বই। এর মধ্যে রয়েছে আব্দুল কাইয়ুমের গণিতের জাদু। আবার গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কর্মীরা প্রস্ত্ততির জন্য বিডিএমও প্রস্তুতি নামের বই তৈরি করেছে। শিক্ষক ডটকমে শুরু করা হয়েছে ভিডিওভিত্তিক গণিতের বিভিন্ন কোর্স।
২০১৫ সালে গণিত ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৪ সালে ঢাকার বাইরে একটি ক্যাম্পের সব আয়োজন হলেও বিরূপ পরিস্থিতিতে সেটি সম্পন্ন করা যায়নি। ২০১৫ সালে ঢাকার বাইরে একাধিক গণিত ক্যাম্পের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া এই প্রথমবারের মতো গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির উদ্যোগে ও একাডেমিক সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণিত শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। শিক্ষকদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন ইচ্ছা করলে এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
গণিতে দক্ষতা বাড়ানো একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে পারাটাই এই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সফলতা। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির আয়োজনে একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকের নেতৃত্বে সারা দেশে প্রথম আলো বন্ধুসভা ও গণিত অলিম্পিয়াডের স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করে চলেছেন।
আমাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ব্যবস্থাপনার সব ঝক্কি-ঝামেলা সামলাচ্ছে প্রথম আলো। তাদের সবার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।
গণিত উৎসবের জয় হোক।

Bangladesh Mathematical Olympiad Committee Logo
Bangladesh Mathematical Olympiad Committee is the organization who organizes the Math Olympiad each year across the country with the support form Dutch Bangla Bank & Prothom Alo.
© 2021, Bangladesh Mathematical Olympiad Committee

Quick Links

Contact Info

+880-2-8180078-81 Ex-2128
info@matholympiad.org.bd

Build With by Nasir Khan Saikat
Theme by JoomShaper

Search