‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান সামনে রেখে দেশব্যাপী শুরু হল ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব ২০১৯’। প্রথম দিন রোববার পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত হয় গণিত জয় ও গণিতের প্রতি ভালোবাসার এ উৎসব। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৪০ জন খুদে শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

দেশের শিক্ষার্থীদের গাণিতিক মেধার উৎকর্ষ বৃদ্ধি ও ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ৬০তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের (আইএমও) জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী এ গণিত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমে ৬৪ জেলায় বাছাই অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। বাছাই অলিম্পিয়াডের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ম্যাথ অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটে (www.matholympiad.org.bd) ।

বাছাইপর্বের বিজয়ীদের নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ১২টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে আঞ্চলিক পর্ব। তারপর আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীদের নিয়ে মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় উৎসব। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির আয়োজনে ১৭তম বারের মতো এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাছাইপর্বের বিজয়ীদের নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে ১২টি শহরে আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীদের নিয়ে মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় উৎসব।বাছাইপর্বের বিজয়ীদের নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে ১২টি শহরে আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীদের নিয়ে মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় উৎসব।রোববার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে পঞ্চগড়ের করতোয়া কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষানিকেতন। তাদের সঙ্গে উৎসবে আসেন অনেক অভিভাবকও। উৎসবে অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের চোখমুখ ছিল আগ্রহ-উদ্দীপনায় ভরা। গণিতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই শিক্ষার্থীদের এমন আগ্রহ বলে জানালেন কয়েকজন অভিভাবক।

সকাল সাড়ে ১০টায় বাছাই অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সূচনা বক্তব্য দেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ গোলাম আজম, নির্বাহী হাকিম সুমন জিহাদী, উৎসবের ভেন্যু প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নাসিমুল হাসান, প্রথম আলোর পঞ্চগড় প্রতিনিধি রাজিউর রহমান, গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক টিম মেম্বার কায়েস আল মাহমুদ, মাকবুল হোসেন আহাদসহ প্রথম আলো পঞ্চগড় বন্ধুসভার সদস্যরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক ও প্রথম আলোর এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, গণিত অলিম্পিয়াডের মতো এ রকম আয়োজন শিক্ষার্থীদের গণিত শেখার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিবে। পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীরা এই বাছাইপর্ব থেকে উত্তীর্ণ হয়ে দেশসেরা হোক এমনটাই তিনি কামনা করছেন। অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীরই সফলতা কামনা করেন তিনি।

‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসবে’ পঞ্চগড়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৪০ জন খুদে শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ছবি: প্রথম আলো‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসবে’ পঞ্চগড়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৪০ জন খুদে শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ছবি: প্রথম আলোবেলা ১১টায় শুরু হয় গণিত উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা। এতে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৪০ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক-এই চারটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেয়। এক ঘণ্টার গণিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যায়। পরে ১০২ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়।

অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে আসা করতোয়া কলেক্টরেট আদর্শ শিক্ষানিকেতনের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান বলে, ‘প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে আমি গণিত অলিম্পিয়াডের রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। গণিত আমার খুব প্রিয় বিষয়। আশা করি, আমি উত্তীর্ণ হব।’

সদর উপজেলার সন্ন্যাসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহফুজ ফয়সাল বলে, ‘আমি অঙ্ক করতে ভালোবাসি। এখানে পরীক্ষা দিতে এসে ভালো লাগছে। এ রকম পরীক্ষা দিতে এবারই প্রথম এসেছি।’

দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আসা অভিভাবক মাহবুবুল আলম বলেন, ‘গণিতের প্রতি আগ্রহ আর ভালোবাসা থেকেই ওদের এখানে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আমারও অনেক ভালো লাগছে। এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের সন্তানদের আরও সৃজনশীল করে তুলবে।’