কুষ্টিয়ায় গণিত উৎসবে পরীক্ষায় মগ্ন শিক্ষার্থীরা। ছবি: তৌহিদী হাসান

কুষ্টিয়া ও নরসিংদীতে আজ রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গণিত উৎসব। শীতের সকালে এ উৎসবে দুই জেলার প্রায় ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল সাড়ে আটটা। এর আগেই ঘন কুয়াশা ও মৃদু শীতল বাতাস জয় করে শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে আসতে শুরু করে। সাড়ে আটটার আগেই পূর্ণ হয়ে যায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠ। সেখানে ডাচ-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব শুরু হয়েছে।
সকাল নয়টায় কুষ্টিয়া বন্ধুসভার সদস্যরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আনার কলি মাহবুব। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা তোলেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিভা রানী পাঠক ও আন্তর্জাতিক পতাকা তোলেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম। এ সময় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক ও যুব কর্মসূচির সমন্বয়ক মুনির হাসান, প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আনার কলি মাহবুব বলেন, ‘শীতের শীতল বাতাস ও গণিতের ভয়কে উপেক্ষা করে তোমরা যারা আজ এখানে এসেছ, তোমরাই পারবে ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্বে দিতে। জয় করবে সকল বাধা-বিপত্তি।’
কুষ্টিয়ার উৎসবে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সকাল পৌনে ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়।
নরসিংদী: সকাল থেকেই নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আসতে থাকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা। এখানেই গণিত উৎসবের নরসিংদী আঞ্চলিক পর্যায়ের অনুষ্ঠান। ১৩তম এ গণিত উৎসবের স্লোগান ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল সাড়ে নয়টায় নরসিংদী বন্ধুসভার সদস্যরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান জাতীয় পতাকা, ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খোদাদাদ খান গণিতের আন্তর্জাতিক পতাকা ও নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র মিত্র বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র মিত্র গণিত উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে নরসিংদী ও ব্রহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৌনে পাঁচ শ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এই চার বিভাগে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা গণিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।