গণিতের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি সাফল্য পেল বাংলাদেশ। গত ২৭ জুলাই থেকে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতা। এবারের আয়োজক ছিল ইন্দোনেশিয়া। করোনার কারণে পুরো আয়োজনটি ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ১টি রৌপ্যপদক,১টি ব্রোঞ্জপদক ও ৪টি সম্মানসূচক স্বীকৃতি পেয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও দলগত প্রতিযোগিতা-দুটিতেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে।

বাঁ থেকে শারার ও নাদিদ। ছবি: সংগৃহীত
বাঁ থেকে শারার ও নাদিদ। ছবি: সংগৃহীত

২৯ জুলাই এই প্রতিযোগিতার মূল পরীক্ষা পর্বে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। কী স্টেজ ৩-এ (লোয়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি) ব্যক্তিগত ইভেন্টে রৌপ্য পদক পেয়েছে খুলনা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী কাজী নাদিদ হোসেন এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থী নায়ার শারার। এ ছাড়াও একই বিভাগে ২টি সম্মানসূচক স্বীকৃতি পেয়েছে নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদিবা ইবনাত ও ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মো. আজমাইন হাসান।

কী স্টেজ ২-এ (আপার প্রাইমারি ক্যাটাগরি) প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ দল। ম্যাপেল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী আরিব নোমান ও ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী খন্দকার ফারহান ইশরাক বাংলাদেশের হয়ে পেয়েছে ২টি সম্মানসূচক পদক। দলের বাকি দুই সদস্য ছিল দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. জাবির ইবন আবু দাউদ ও খুলনার সরকারি করনেশন স্কুলের শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী সমাদ্দার।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দল ব্যক্তিগত ইভেন্টে সম্মিলিতভাবে মোট ১৮৬ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছে। দলগত ইভেন্টে ১৯৩ নম্বর পেয়ে পিংক গ্রুপে বাংলাদেশের অবস্থান-দ্বিতীয় রানার আপ। এ ছাড়াও তিন দিনব্যাপী পাজল সলভিং কনটেস্টে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা।

রৌপ্যজয়ী কাজী নাদিদ হাসান বলে, ‘জীবনে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেই পদক পেলাম। আমি খুবই খুশি। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করব।’

শিক্ষার্থীদের সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়ে আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ দলের সমন্বয়ক ডি এম জুনায়েদ কামাল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা বেশ মেধাবী ও পরিশ্রমী। লকডাউনের কারণে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা না দিতে পারলেও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খুব ভালো ফল করেছে। আশা করছি সামনে আমরা আরও ভালো করতে পারব।’

কী স্টেজ ২-এ (আপার প্রাইমারি ক্যাটাগরি) দলনেতা ও উপ দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক সদস্য মো. তুরাব হক এবং অনন্যা শাহরিন। কী-স্টেজ ৩ (লোয়ার সেকেন্ডারি) বিভাগে দলনেতা ও উপ-দলনেতা হিসেবে ছিলেন যথাক্রমে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক সদস্য সাদ বিন কুদ্দুছ ও তাহমীম নূর।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি চলতি বছর অনুষ্ঠিত অনলাইন বাছাই, আঞ্চলিক ও জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের ফলাফলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচন করেছে।